তিনকবির সংলাপ ” মেঘবালিকার ধারাপাত…”

ভেজা মেঘের আলাপে
আবেগ করে স্নান
আমার মনে তোমার ছবি
হয়না কভু ম্লান।

আকাশের মেঘ যখন মনের মাঝে এসে জমাট বাঁধে অগোছালো ভাবনা গুলো তখন কবিতা হয়ে ডুব দেয় মন দরিয়ায়। পামেলা, দেবারতি, শেলী এরা তিন বন্ধু।না চাক্ষুষ কেউ কাউকে দেখেনি। তবুও তারা বন্ধু। ভার্চুয়াল জগৎ এর মোহজালে আবদ্ধ তিন অসম বয়সী বন্ধুর নৈশ আড্ডায় তখন শুধু মেঘ। নানা রূপে, নানা রং এ, নানা ছন্দে, নানা শৈলীতে ধূসর কালো মেঘ হয়েছে ভাবনার স্রোতে রঙীন। পারস্পরিক আলাপচারিতায় মেঘ টুকরো টুকরো কবিতায় ধরা দিয়েছে মুঠো ফোনের পর্দায়। মন ছুঁয়েছে মন কে। একাত্ম হয়েছে তিন নারী-মন।
পরদিন সকালে বর্নালী র আলোয় রং মেখেছে মেঘ গুলো। ফুলের মালা গাঁথার মত সাজাতে চেয়েছে টুকরো টুকরো মন ভেজানো কোলাজ। মেঘ সাজানোর এই এলোমেলো উদ্যোগ বাকী বন্ধুদের জন্য…..

মেঘবালিকার ধারাপাত…

মেঘবালিকা:
“মেঘলা রাতে বৃষ্টি এল ঝুপ করে!
চাঁদের হাসি লুকাচ্ছে মুখ টুপ করে!
মেঘের শরীর গলছে এমন চোখ পাতায়
আমরা দুজন যাচ্ছি চলে রূপকথায়!”

অর্ষমা:
“রূপের কথা হয় যদি বা নিরুদ্দেশ…
হলই বা সব ইচ্ছে মতন গল্প শেষ…
রইল বাকি যত্তটুকু সেই তো বেশ!
মন মেলানো হালকা সুরের ছোট্ট রেশ!”

মেঘবালিকা:
“মেলাক না সুর রেশটুকু থাক মনকেমন!
বৃষ্টি ধোয়া মেঘের চিঠির হোক যতন!
জাতিস্মরের স্পর্শ যেমন নীলরতন!
জন্ম খুঁজে ফিরছি বুঝি সেই মতন!”

অর্ষমা:
“স্বপ্ন বুঝি মিথ্যে হল এখোনো?
এরপরেও মেয়ে আর কি তুই স্বপ্ন চাস!?
হৃদয় জুড়ে পাগল করা মেঘের বাস…
এইতো আবেগ.. এই আলোতেই স্বপ্নে ভাস!”

মেঘবালিকা :
“আবেগ তো নয়, ভালোবাসার পাগলামি!
মিথ্যে কোথায়! স্বপ্নগুলো খুব দামি!
হৃদয় জুড়ে মেঘ হয়েছে আবেশময়!
সত্যি এ তো, মিথ্যে কোনো গল্প নয়!”

বিভাবরী :
“আনচান হল বুভুক্ষু মন মেঘের আনাগোনায়!
স্তব্ধ আমি শান্ত হলাম অগোছালো পাওয়ায়!
মনের মেঘে প্রেম জমেছে আলতো আবেগ ডাকে,
হাতটা ধরে চলুক এ পথ মনযমুনার বাঁকে!”

মেঘবালিকা :
“রোজই আসে মেঘপিওনের বন্ধ খাম।
অপেক্ষারা জমায় চিঠি রোজ শুধুই।
ঘুমের ভেতর ভাসছে শুধুই একটা নাম,
মনের ভেতর রূপটানেরই সেই যাদু! ”

অর্ষমা:
” মেঘের চিঠি আসুক তাতে ক্ষতি কি?
আয় মেঘের নামেই একটু করে রোজ বাঁচি!
অপেক্ষা হোক সারাজীবন অন্তহীন!
নশ্বরতা অমর মাঝে হোক বিলীন!!”

মেঘময় মেঘবালিকা — দেবারতী

বিভাবরী, গলিত সুধা—শেলী

অর্ষমা, উজ্জ্বল প্রভা—পামেলা
মুখবন্ধে শেলী⁠⁠⁠⁠

You may also like...

Leave a Reply