দেবায়ন কোলের অনুগল্প ‘ভালোবাসার রঙ’

দেবায়ন কোলে

বিয়ের পরে একবারই মাত্র দোল খেলার সুযোগ হয়েছিল সুতপার। অর্ণব পেছন থেকে সেদিন হঠাৎ করে তার শ্যামলা রঙের মুখটাতে আবীর মাখিয়ে বলেছিল, “শুভ দোলযাত্রা,তপা। এরকমই সুন্দর থেকো সবসময়।” লজ্জায় আবীরের থেকেও লাল হয়ে উঠেছিল সেদিন সুতপা। মুখে বলেছিল, “আমার রঙ মাখতে ভালো লাগে না, জানো না?”

অর্ণব তাকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করে বলেছিল, “এটা যে সে রঙ নয় ম্যাডাম, এটা হল ভালোবাসার রঙ। আমার ভালোবাসাটা গচ্ছিত রেখে দিলাম তোমার কাছে আজ থেকে।” পরের বছর দোলের সময় অর্ণবের শরীরটা তেরঙায় মুড়ে এসেছিল সুতপার কাছে। অর্ণবের দেওয়া শেষ রঙটুকুও সিঁথি থেকে মুছে দিয়েছিল সেদিন। ভালোবাসার রঙটাও ফিকে হয়ে গিয়েছিল কি আস্তে আস্তে?

পেছন থেকে হঠাৎ কে যেন সুতপার মুখে আবীর ঘষে বলল, “শুভ দোলযাত্রা, মা।”

সুতপা পেছন ফিরে বলল, “এটা কি করলি বুবুন, জানিস না আমি এগুলো পছন্দ করি না!”

পাশ থেকে চিন্ময়ী এগিয়ে এসে বলল, “বারণ করবেন না কাকিমা, এই একটা দিনে নিজের মানুষকে রঙ লাগানোর অধিকার সকলের আছে।” বলে সেও গালে আলতো করে আবীর মাখিয়ে দিল সুতপার গালে।

সুতপা চিন্ময়ীর আবীররঙা মুখটার দিকে তাকালো। ড্রাগের নেশায় ডুবে যাওয়া বুবুনকে হাত ধরে তুলে আনা এই মেয়েটা কোনদিন বুবুনের থেকে বন্ধুত্বের বেশি দাবী করেনি কিছু আজ অবধি। যদিও সুতপা এর চোখে বুবুনের জন্য ভালোবাসার ছোঁয়া দেখেছে। কিন্ত বুবুন কি দেখতে পেয়েছে?

আবীর নিয়ে দুজনকে আশীর্বাদ করতে গিয়ে সুতপার মনে পড়ল অর্ণবের কথা। তাদের প্রথম দোলে অর্ণব যে ভালোবাসার রঙটা গচ্ছিত রেখে গিয়েছিল তার কাছে, সেটা এভাবে নষ্ট হতে দিতে পারেনা সে।

দুজনের মাথায় হাত রেখে সুতপা বলল, “প্রার্থনা করি তোরা দুজনে একসাথে খুব সুখী হ।”

You may also like...

1 Response

  1. ছোটর মধ্যে বেশ ছিমছাম, সুন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *