বর্নালী চন্দর গল্প ‘নতুন অধ‍্যায়’

            বর্নালী চন্দ

ঘুম থেকে উঠে রাতুল দেখল বেশ বেলা হয়ে গিয়েছে। ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই লাফিয়ে উঠল, বাপ্ রে আটটা বেজে গিয়েছে। সকাল ছটার অ্যালার্ম দিয়েছিল মোবাইলে, কখন যে বেজে বেজে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বুঝতেই পারে নি। আসলে মায়ের ডাক শুনে উঠতে অভ‍্যস্ত ও, মাই ছিল ওর অ্যালার্ম। যখন হস্টেলে ছিল তখন‌ও মা রোজ সকালে ফোন করে ওঠাতো। অভ‍্যাসটা এখন‌ও রয়ে গিয়েছে।
চোখ কচলাতে কচলাতে একবার উঁকি মারল দিদির ঘরে। দিদি ঘরে নেই। নির্ঘাত রান্না ঘরে হবে। রাতুল আসলেই দিদি নিজের হাতে রান্না করে। নামকরা পাঁচতারা হোটেলের নামী শেফ ওর দিদি রিদ্ধি। 
এককাপ চায়ের আশায় রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই দেখতে পেল রিদ্ধি চা নিয়ে আসছে। ' দিদিটা একদম মায়ের মত‌ই হয়েছে', ভাবতে ভাবতেই চা নেওয়ার জন‍্য হাত বাড়াল রাতুল। ' কি রে এমন হাঁদার মতো দাঁড়িয়ে কেন? যা চা খেয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে।' রিদ্ধি তাড়া লাগাল ওকে।
- বাবাই কি করছে রে দিদি?
- কি জানি।
দিদির উত্তরে সন্তুষ্ট হল না রাতুল। পা বাড়াল বাবার ঘরের দিকে।
অয়ন তখন নিজের ঘরে বসে চুপচাপ বসেছিল। কি ভাবছিল কে জানে! রাতুল এসে বাবাকে তাড়া লাগাল।
- একি বাবাই, তুমি বসে রয়েছ যে? তাড়াতাড়ি তৈরি হ‌ও। এগারোটার মধ‍্যে পৌঁছাতে হবে যে।
- হ‍্যাঁ, বাবা জরুরী, দিদি আগামীমাসে অস্ট্রেলিয়া চলে যাবে। আমি বাইরে থাকি। মা থাকলে না হয় আলাদা ব‍্যাপার হত। তুমি তো একদম একা হয়ে যাবে বাবাই। তোমাকে একা কি করে রেখে যাই বলত বাড়িতে?
- আমি পারবো না রে , আমায় মাফ করে দে। আমি একা থাকতে পারব।
- তা আর হয় না বাবাই, তোমাকে তো এতবার বোঝালাম, তোমাকে একা ছেড়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
- তাছাড়া , মানুষ একা থাকেই বা কি করে!!! পেছন থেকে রিদ্ধির গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। কখন যে ওদের পেছনে এসে দাঁড়ি বুঝতেও পারে নি ওরা।
মেয়ের সামনে কেমন যেন চুপ করে যান অয়ন। কবে যে মেয়েটা এত বড় হয়ে গেল!!! 
চুপচাপ উঠে বাথরুমে ঢুকলেন চোখের জল লুকাতে। স্নান সেরে বাথরুম থেকে বের হয়ে এসে দেখলেন একজোড়া নতুন পায়জামা পাঞ্জাবি বিছানার ওপর রেখে গিয়েছে রিদ্ধি। চুপচাপ তৈরি হয়ে একবার তাকালেন অনন‍্যার ছবির দিকে। ভীষণ কান্না পেল। কিন্তু পুরুষমানুষের যে কাঁদতে নেই! হঠাৎ খুব রাগ হল অনন‍্যার ওপর।এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার দরকার কি ছিল ওর????
তৈরি হয়ে বসার ঘরে আসতেই দেখলেন দুই ছেলেমেয়ে তৈরি হয়ে বসে আছে সোফায়। বুঝতে পারছিলেন না কেন তাঁর নিজের ছেলেমেয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিল। রিদ্ধি তাড়া লাগাল,
- বাবাই, চলো, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
ধীরে , অতি ধীর পায়ে ঘর থেকে বের হলেন অয়ন। পার্কিং গাড়ির সামনে এসে রাতুলকে ড্রাইভিং সিটে দেখে মনে মনে কষ্ট পেলেন। ওরা জানে অয়ন ড্রাইভ করতে পছন্দ করে, কিন্তু আজ ওরা কেউ ওর মতামতের বা পছন্দ অপছন্দের তোয়াক্কা করছে না। অয়ন চুপচাপ পিছনের সিটে বসলেন। খানিকটা অসন্তুষ্ট........ গাড়ি ছুটে চলল.....
বাবাকে হাত ধরে নতুন জীবনে প্রবেশ করাতে নিয়ে চলল রিদ্ধি আর রাতুল।
আজ অয়নের রেজিস্ট্রি ম‍্যারেজ।

 
 
 

You may also like...

Leave a Reply