ময়ূরী পাঁজার গল্প “আটই মার্চ, দুই হাজার আঠারো”

আজ নারী দিবস। নারী সংক্রান্ত পোস্টে আলোচনায় ছয়লাপ। না না, আমিও ব্যতিক্রমী নই, গা ভাসিয়েছি মতামত লিখতে। যা লিখব তার দায় একান্তই আমার।

আজ বিভিন্ন পোস্টে গল্পে কবিতায় আমরাই মুখ্য চরিত্র কিন্তু সেই আমরাই যখন জীবনে বার বার শূন্য থেকে শুরু করি বড্ড গৌণ হয়ে যাই।

যখন চলতে শিখি একদিন মা হাত ছেড়ে দেন, কচি পায়ে টলমল করতে করতে খানিকটা এগিয়ে ঝুপ করে বসে পড়ি সেদিনটা কিন্তু শূন্য থেকে শুরু।

যেদিন প্রথম মেয়ে হওয়া, রজঃস্বলা হওয়া, রক্তের টাটকা দাগ জামাকাপড়ে সকলের উৎসুক চোখের সামনে শূন্য হওয়া। অথচ সকলেই এই ব্যাপার সম্পর্কে জ্ঞাত। ” দ্যাখো জামায় দাগ লেগেছে।” এই একটা কথায় ভেতরটা একটুক্ষণের জন্য শূন্য হতে বাধ্য । কেউ গুটিয়ে যায় কেউ মেরুদন্ড ঋজু রাখে, একমুহূর্তের জন্য যে শূন্যতা ঘিরে ধরে না কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

যেদিন থেকে স্তন ফুটে উঠতে লাগল , কারুর কারুর অনাবশ্যক ছোঁয়া সেদিনগুলোতে রাতেও কিন্তু শূন্যতা রাক্ষস তেড়ে আসে। রাজপুত্তুর থাকে না তলোয়ারে ফালাফালা করে দিতে।

ভালোবাসা যেদিন মনের কোণে জন্মায় সেদিনটাও শূন্যতার দিন। ভেতর উজাড় করে মায়ের স্নেহ, প্রেমিকার ভালোবাসা দিয়ে দিই।

যেদিন বিয়ে হয়, প্রিয় ঘর, দেওয়ালের আঁক, শেষ হওয়া ডেট এক্সপায়ারড নেলপলিশের শিশি, চোখ উল্টানো পুতুল, রান্নাবাটি, মায়ের হলুদ মাখা আঁচল, বাবার উষ্ণ কনুই ছেড়ে আসার সময়টাও শূন্যতা।

ফুলশয্যার রাতে অপরিচিত নিয়মে স্বামী সেবা করে অন্ধকারে রিপুর রমণে শূন্য হওয়া সেদিনটাও শূন্যতার দিন।

” এই তিনবছর হল দিদি নাতি নাতনির মুখ দেখা হয়নি। ” শূন্যতার দিন।

”  ছেলের বাপের মত নাক হয়েছে,  ঠাকুমার মত চোখ। ” গুরুজনদের লঘুজ্ঞানে  মুখের দিকে তাকিয়ে শূন্যতার আরেকদিন।

” আমার সন্তান বলেই ব্রিলিয়ান্ট, দেখতে হবে তো কার প্রোডাক্ট। ”

শূন্যতার ব্যঙ্গ

আর বলব?

প্রত্যেক শূন্যতায় আমাদের নতুন জন্ম হয়। মা দূর্গা হলে এতদিনে কপালে এক্সট্রা চোখ গজিয়ে প্যাট প্যাট করে পলক ফেলত। নেহাত ভোগী মানুষ বিছানায় শান্তি খোঁজে, বন্ধুর কোলে মুখ গোঁজে তাই দিব্যি খাড়া হয়ে থাকি।

আমি নারীবাদী বিবাদী কিছুই নই। ছোটবেলা থেকে নিতান্ত নিঃসঙ্গ মানুষ, নারী দিবস উপভোগ করছি, নতুন জন্মগুলোর স্মৃতি নিয়ে ক্রাশের, প্রেমিক মানুষের হাত ধরে।

মন কেমন ? ওপারে পুরুষ কন্ঠ, অনুভবে তোমার মাথা টানে বুকে, কাঁধে। ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাস । আমরা এটাকেই দাবি ভেবে ফেলি। তারপর ? শূন্য হয়ে যাই।

মধ্যরাতে স্বামী বাথরুমে মোবাইল নিয়ে, সন্দেহে শূন্যতা ।

শূন্যতায় জন্মাই, শূন্যতায় মরি ।

শূন্যতা ভরি স্পর্শে, পুরুষ হোক বা নারী ।

আমার একটা অদ্ভুত ভয় আছে , বিধবা হবার ভয়। লাল আমি পরি না ঠিকই লাল হারাতে ভয় পাই। সাদা সরুপাড় থানে শোকের সাথে শূন্যতা থাকে।

এতকিছু ভয় শূন্যতা নিয়েই তো প্রতিদিন একলা যাপন, প্রতিদিন নারী পুরুষ দিবস।

 

Leave a Reply