শ্বেতা ভট্টাচার্য র “নারী দিবস”

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই  সম্পর্কে  আলোচনার পূর্বে জানা উচিত “নারী” শব্দের নিগূঢ় অর্থ।মানবী,মানুষী,রমণী,নন্দিনী,জেনানা,অন্তঃপুরবাসিনী এবং অপরাজিতা।যদিও প্রতিটি শব্দের মানে আলাদা।নারী কখনও দেবী,কখনও দানবী।ধর্মগ্রন্থ গুলোতে “নারী” সম্পর্কে নানা অভিমত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।ইসলাম ধর্মে, মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহশত বলা হয়েছে। আবার প্রবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে”তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র”।মনুসংহিতায় বলা হয়েছে,”নারীজাতি ক্ষেত্র  স্বরূপ এবং পুরুষজাতি বীজ স্বরূপ।সব ধরনের ধর্মগ্রন্থ থেকেই এই মত উপলব্ধি নারী আসলে ত্রাতা-দার্শনিক-মুনি-ঋষি।

তবুও বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটি নারীকে তার সম্মান-অধিকারের জন্য অসম লড়াই আজও করতে হয়। যার বীজ রোপণের কাহিনী পাওয়া যায় ইতিহাসের পাতায়।১৮৫৭ সালে মজুরি ,কর্মঘন্টা,কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার কর্মীরা।এরপর ১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্কে র সোশ্যাল ডেমোক্রেট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটনিকের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” পালন হয়। এরপর ১৭টি দেশের ১০০জন মহিলা প্রতিনিধিদের নিয়ে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সন্মেলন। এই সন্মেলনে ক্লারা সর্বপ্রথম’৮’-ই মার্চকে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” হিসাবে পালন করবার প্রস্তাব দেন।১৯৯১সাল থেকে নারীদের সম অধিকার দিবস হিসাবে পালিত হবার সিদ্ধান্ত হলেও, ধীরে ধীরে ১৯৭৫ সালের ৮-ই মার্চ এই দিনটিকে ‘জাতি সংঘ ‘ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্বীকৃতি প্রদান করে।সেখান থেকেই এই দিনটি সারা পৃথিবী জুড়ে নারীর সম অধিকার আদায়ের জন্য পালন করা হয়।

প্রকৃত অর্থে, আজও নারীরা সম অধিকার এবং সন্মানের দাবিতে লড়াই করে চলেছে। বিশ্বের বহু জ্বলন্ত উদাহরণের মধ্যে এমন এক উদাহরণ বর্ধমানের সূপর্ণা গোস্বামী। যেসব মেয়েরা সংসার নামক জাঁতাকলে পিষে স্বপ্ন নামক ভ্রূণকে হত্যা করে চোখের জলে বালিশ ভেজায়, তাদের কাছে সে এক ‘আইকন’। রেললাইন অথবা কেরোসিন তেল  যার  ভবিষ্যৎ হতে পারতো, তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উচ্চ পদস্থ, উচ্চ শিক্ষিত অধ্যাপক স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত রকম লাঞ্ছনা, বঞ্চনা অপমানের যোগ্য জবাব দিতে কিছু দিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভের পরীক্ষা সমাপ্ত করেছে সে। সূপর্ণা বিশ্বাস করে, -“গলা টিপলে দম বন্ধ হয়, কন্ঠ নয়।”

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *