ময়ূরী পাঁজার গল্প ‘বৈশাখী উপহার’

সুবর্ণপ্রভা দেবী বসে আছেন পালঙ্কের চূড়োর গায়ে হেলান দিয়ে , কোলে একটা অ্যালবাম। যে পালঙ্কে হেলান দিয়ে আছেন,  অনেক বড়,  দুদিকে দুটো চূড়ো। সামনে দুটো বড় বড় জানলা। জানলার ওপারে পুকুর ,  কয়েকটা ছেলে ঝা়ঁপাই জুড়েছে। পুকুরের ওপারে মাঠ,  রোদ্দুরে খাঁ খাঁ করছে।  মাথার উপর পাখাটা ঘটাং ঘটাং শব্দ করে ঘুরছে ,  মাথার দু তিন গাছি চুল হালকা ওড়া উড়ি করছে। পরনে তাঁর ফাইন কস্তাপেড়ে শাড়ি,  সাদা ব্লাউজ। আনমনা হয়ে তাকিয়েই আছেন বাইরের দিকে।
বহুদিন পর এ বাড়ি এলেন, শ্বশুর বাড়িতে ।  ছেলেরা বলে এ বাড়ির আনাচে কানাচে পুরনো গন্ধরা এখনো বাসা বেঁধে আছে। এ বাড়িতে থাকাকালীন বৈশাখ দুহাতে জীবনের তার সযত্নে বেঁধে দিত ,  শেষ বেলার চৈত্র সে তার ছিঁড়ে দিত,  আবার নতুন করে তার বাঁধা চলত।  সারা বছর জুড়ে চলত টুং টাং টিং উৎসবের মতই। বড় খোকা বলে তাঁর নাকি শব্দের উপর দূর্বলতা আছে।সত্যিই তিনি বিয়ের আগে মায়ের চুড়ির ঠিনঠিনে মিঠে শব্দ,  ঠাকুমার পাটভাঙ্গা শাড়ির খসখস শব্দ ,  গাছের উপর বৃষ্টি পড়ার শব্দ,  বিয়ের পরে এবাড়িতে খড়খড়ি টানার শব্দ ,  কাঁসার থালা বাটির শব্দ খুব শুনতেন।  শাশুড়ি তাঁকে বড় ভালোবাসতেন,  সেই কোন ছোট্টটি অবস্থায় তেরো বছরের মেয়ে এমন বৈশাখী দিনে এ বাড়িতে পা দিয়েছিলেন,  তাঁর কচি পায়ের জন্য বাঁধানো উঠোনে বালতি বালতি কুয়োর জল ঢেলে ঠান্ডা করা হয়েছিল।  ঐ দরজায় শাশুড়ি বরণডালা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন,  শ্বশুর থেকে থেকে গোঁফের ডগা পাকাচ্ছিলেন। তারপর একে একে মেয়ে আচার, সকলের সাথে পরিচয়,  দিনগুলো ঝড়ের বেগে সই পাতিয়ে পুতুল খেলে সংসারে ছোটখাটো কাজ করে কেটেই যাচ্ছিল। কর্তা তো বিয়ের পর পর কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন।কর্তা ছিল তেইশ বছরের,  তিনি ভাব করেননি বউয়ের সাথে। বউ নিজের মনে এঘর ওঘর করত।
শাশুড়ির একটা তোরঙ্গ তাঁর বড় কৌতুহলের জিনিস ছিল, তোরঙ্গে কারুর হাত দেওয়ার অনুমতি ছিল না,  পিতলের চকচকে গা তালা লাগানো থাকত।  যখনই তোরঙ্গ খুলতেন শাশুড়ি মা,  একটা নিজস্ব গন্ধ ছড়িয়ে যেত,  কেমন সে গন্ধ ?  এই অম্রুতাঞ্জনের সাথে কাচা কাপড়ের,  মৃদু ফুলেল গন্ধওলা ধূপের, এলাচের গন্ধ সব মিলিয়ে মিশিয়ে যেন রহস্য আর তার গন্ধ….  তোরঙ্গ খুলে কিছু বের করেই তালা আটকে দিতেন।
c
চৈত্রে উনি বাড়ি এলেন,  বৈশাখ পড়তে আর কদিন!  সংসারে শাশুড়িকে সাহায্য করতে সুবর্ণপ্রভার মন খুঁতখুঁত করত,  ও ছবিখানি কার !   আর পুতুল খেলাতেও মন বসত না ,   কেমন যেন উসখুসে ভাব। কর্তাকে দেখে মনে এক অদ্ভুত চঞ্চলতা জাগল,  মনে হত তাঁর কাছে কাছে ঘুরি,  তাঁর পানটা জলটা এগিয়ে দিই, ওঁকে দেখে মুখ টিপে হাসা। একদিন চৈত্রের দুপুরে তেঁতুল মেখে তাঁকে খুঁজতে গিয়ে দেখেন নিজের ঘর বন্ধ। ভেতরে খিলখিলে মেয়েলি হাসি ,  ওনার গমগমে কিন্তু নীচু গলা।  বন্ধ কপাটের এপারে নতুন ভালো লাগায় ভরা মেয়েটার মনটা কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল,  ছুটে চলে গিয়ে চিলেকোঠার দরজা সজোরে বন্ধ করে জানলার গরাদে মুখ ঠেকিয়ে  নিঃশব্দে চোখের জলে গাল ভিজিয়ে ছিল।  শাশুড়ি সন্ধ্যায় জোর করে কপাট খুলিয়ে ভিজে আঁচলে চোখ মুখ মুছিয়ে বলেছিলেন  ”  একটু অপেক্ষা কর  মা ,  জীবন তো ?  নিজের খাতে চলে ! ” ,  শাশুড়ির কোলে মুখ গুঁজে  জিজ্ঞেস করেছিলেন  ”  ও ছবিখানি  কার  মা ?? ” ,  শাশুড়ি উত্তর দেননি,  অন্যমনস্ক ভাবে তাঁর চুলে বিলি কেটেছেন।  উত্তর পাওয়া যাবে না  মেয়েটা বুঝে মুখটা আরো গুঁজে দিয়েছিল শাশুড়ির কোলে,  নাকে এসে ধাক্কা খাচ্ছিল পাটভাঙা শাড়ির খসখসে গন্ধ, চন্দনের গন্ধ, এলাচের গন্ধ। উনি খুব এলাচ খেতেন যে।
সে চৈত্রটা হারানোর চৈত্র ছিল!!  পয়লা বোশেখে শাশুড়ি কোলকাতা থেকে চারটি বঙ্কিমচন্দ্রের নভেল আনিয়ে বউমাকে দিয়েছিলেন,  বউমার খালি খালি লাগা দুপুর ও রাত্রে ঘুমনোর আগের মুহূর্তটা ভরে দিতে চেয়েছিলেন বোধহয়! চিলেকোঠায় একটা খাট করে দিয়েছিলেন জানলার কাছে ,  একটা গোলাপ ফুল ছাপ তোরঙ্গও দিয়েছিলেন। বই রাখার একটা টেবিল,  লন্ঠন  সবই মজুত ,  তবুও  সুবর্ণপ্রভা দেবীর মনে হত কি যেন নেই ,  কেউ যেন অগোছালো করে দিচ্ছে না!
পরের বৈশাখে এক কালবৈশাখী ঝড়ের রাতে পালঙ্কে চিৎ হয়ে শুয়ে চোখে মুখে বৃষ্টি মেখেছিলেন,  মেঝে অবধি ঘন চুল এলো করে… উষ্ণতাকে শীতল করার প্রচেষ্টায় আগুন যেন আরো বাড়ছিল।  শীতল হাওয়ায় অবিন্যস্ত শাড়িতে ঘুম জুড়ে বসেছিল চোখে।  ঘুমের মধ্যেই অনুভব করেছিলেন এক উত্তপ্ত নিঃশ্বাস তাঁর চোখ মুখ পুড়িয়ে দিচ্ছে ,  চোখ খুলে দেখেননি।  বরং  নিঃশ্বাসে নিজেকে পুড়তে দিয়েছিলেন। গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিলেন।
সেবছর  খুড়তুতো দেওর  এসেছিল, ভারী লাজুক মানুষ। মুখে কথা নেই এদিকে তুলিতে অক্লান্ত কথা ফুটিয়ে তোলে,  বলতে নেই তিনিও মুগ্ধ হয়েছিলেন। মাঝে মাঝে ঘরে ঢুকে ছবিগুলোর ঢাকা সরিয়ে দেখতেন। হঠাৎই এরকম দেখতে দেখতে একদম শেষ ছবিটায় তাঁর চোখ আটকে যায়।  ছবিটা এক মেয়ের, অবিন্যস্ত শাড়ি জড়িয়ে পালঙ্কে শুয়ে আছে,  চুল মাটি ছুঁয়েছে। নীচে এককোণে লেখা  ” বৃষ্টি ,  তুই সঙ্গী হবি ? “। ছবিটায় হাত বুলিয়ে,  দরজা বন্ধ করে পালিয়ে এসেছিলেন চিলেকোঠার ঘরে। ততদিনে চিলেকোঠার জানলাটা তাঁর প্রিয় সই হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানলার গরাদ ধরে চড়ুই পাখির কিচিরমিচির দেখতে গিয়ে অনুভব করলেন,  দুপুরটা যেন ভরে উঠেছে!!  তারপর থেকে দেওর আনন্দকে দেখলে সেই পুরনো ভালো লাগা ফিরতে লাগল।  কিন্তু তিনি তো কুলবধূ,  তাই সব স্বাভাবিক রাখতে হত,  ভারী সাজতে ইচ্ছে করত। পাতা উল্টে ছবি দেখার শব্দ তাঁর কানে সবসময় লেগে থাকত। পায়ের আলতা হালকা হলেই লাগিয়ে নেওয়া,  গা ধুয়ে লাল রঙের শাড়ি পরে এলাচ খেয়ে টুকটাক রান্না করা…   আনন্দের চোখে নিজেকে নতুন ভাবে খুঁজে পেয়ে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন।  আরেক কালবৈশাখীর মাঝরাতে দুজনের নিঃশ্বাস ঠোঁটের উপর এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বাজ পড়ার সাথে সাথে ঠোঁট জোড়া একে অপরের সাথে আরো নিশ্চিন্তে মিলিত হল।
তাঁর এই চপলতা শাশুড়ির নজর এড়ায়নি। কিন্তু কেন যেন তিনি কিছু কখনো বারণ করেননি, সুবর্ণপ্রভাকে চলতে দিয়েছেন।
আরেক চৈত্র মাস, শোনা গেল আনন্দের বিয়ে। পাত্রী খোঁজা চলছে। এই খবরে না জানি কেন তাঁর খুব কষ্ট হতে লাগল,  বঙ্কিমচন্দ্রের যে বইগুলো পড়ে এতদিন দুপুর ভরা ভরা লাগত,  তার উপর ধুলো জমতে লাগল। বয়স তখন আঠেরো তাঁর, আনন্দের কুড়ি। আনন্দ এসে চিলেকোঠার দরজায় দাঁড়াতে শেষবারের মত তার পাঞ্জাবী হাতের মুঠোয় ধরে মুখের দিকে চেয়েছিলেন!!  আনন্দের চোখের ভাব বুঝতে পারেননি, কিন্তু তাঁর বুকটা খাঁ খাঁ করছিল চৈত্রর দুপুর রোদের মত।  মুঠো আলগা করে দিয়ে মাথা নীচু করে আবার চিলেকোঠার ঘরে ঢুকে গরাদের কাছে দাঁড়িয়ে চোখ মুছেছিলেন। সেদিনের পর থেকে আনন্দকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।  একটি চিঠি লিখে সে কোথায় চলে যায়!
 বাড়িতে খুব হুলস্থুল পড়ে,  শাশুড়িও তাঁকে আড়ালে ডেকে আনন্দের ঠিকানা জানতে চান। উত্তর ছিল না তো তাঁর কাছেও।
পরের বৈশাখে গভীর রাতে চিলেকোঠার দরজায় মৃদু ঠকঠক,  দেবী চৌধুরানীতে বালিশে শরীর দিয়ে উপুড় হয়ে  ডুবে আছেন, কানে যায়নি সে শব্দ।  বারবার ঠকঠক শব্দে শাড়ি গুছিয়ে দরজা খুলে দেখেন –  স্বামী।  দরজা ঠেলে ঢুকে সুবর্ণপ্রভার পায়ের কাছে বসে পড়ে পা ধরে ক্ষমা চান। ফিরিয়ে দেওয়ার মত জোর ছিল না তাঁর।  স্বামীকে ক্ষমা করে তাঁর বুকে মাথা রেখে সব কথা শোনেন। সে রাত সিঁদুর মাখামাখির রাত….  সে বছর বড় খোকা এল তাঁর কোলে।  স্বামী সংসার গুছিয়ে করতে লাগলেন, শুধু কালবৈশাখীর সন্ধ্যে রাতগুলো তাঁর বুকে শূন্যতার এক বিশাল খাদ তৈরী করছিল, স্বামীর সাথে দূরত্ব বাড়ছিল আবার।
যদিও একে একে বৈশাখগুলো তাঁর জীবন ভরে দিচ্ছিল,  পাঁচ সন্তানে,  তিন খোকা,  দুই খুকি,  স্বামীর আদরে। সব ছিল সাজানো কিন্তু কি যেন নেই ,  বোধহয় নেই নেই ভাবটায় তিনি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন কিংবা নেই নেই ভাবটার প্রেমেই তিনি পড়েছিলেন।  কর্তার সুবিধার জন্য তাঁকে কলকাতায় থাকতে হয়েছিল, এবাড়ির জন্য, চিলেকোঠার জন্য, নিজস্ব তোরঙ্গের জন্য বড্ড মন খারাপ করত। শাশুড়ির শাড়ির গন্ধ শুধু স্মৃতি হাতড়ে নাক ভরে নিতেন। মাঝে মাঝে আসতেন এ বাড়ি। কোলকাতার শব্দগুলোতে অভ্যাসটা মানিয়ে নিয়েছিলেন। দুপুরে ফেরিওলা, ঘটিগরম, শোনপাপড়ির ডাক, শিলপাটার ডাক, ভিস্তিওলার ডাক তাঁর দুপুর শব্দে ভরে দিত।
ছেলে মেয়েদের ইশকুল,  কলেজ পেরিয়ে গেল।  পরপর দু ফাল্গুনে তাঁর লক্ষ্মী সরস্বতী অন্য ঘরে চলে গেল তাঁর ঘর শূন্য করে। ” বোশেখ জষ্টি” করে ঘরে টুকটুকে বউ এল রাঙা পায়ে।  নাতবউ দেখে শ্বশুর শাশুড়ি পনেরো দিনের মধ্যে চলে গেলেন ওপারে প্রায় একসাথেই। সেও চৈত্র মাস। তোরঙ্গের চাবি শুদ্ধু পানের বাটাটি তাঁর হাতে দিয়ে শাশুড়িমা বলে যান  ” আজ থেকে এটা তোর”। না সেদিন  তোরঙ্গ খোলার ইচ্ছে  বা কৌতুহল তাঁর আর ছিল না।
হঠাৎ করে সুবর্ণপ্রভার উনি চলে গেলেন একবছর চৈত্রে খাঁ খাঁ করা শুকনো দুপুরে।  যাওয়ার আগের দিন বড় খোকাকে একলা নিয়ে দরজা বন্ধ করেছিলেন। জলের গেলাস দিতে গিয়ে বন্ধ কপাট দেখে মনে পড়েছিল সেই প্রথম বয়সের স্মৃতি ,  ফিরে গিয়ে চোখে চশমা চাপিয়ে রুমালে হিজিবিজি নকশা তুলেছিলেন মন শান্ত করতে। বড়খোকা কিছুই জানায়নি,  কিছু বলেনি তাঁকে।
এবছর চৈত্রটা প্রায় শেষ,  সুবর্ণপ্রভার বয়স এখন পঁচাত্তর।  বড় খোকা সেদিন বলল ” মা চলো তোমাকে নিয়ে আমরা দেশের বাড়ি ঘুরে আসি,  দীনুদাদুর ছেলে সব দেখাশোনা করছে।  চলো, ব্যাগ গুছিয়ে নাও। “
এবাড়িতে পা দিয়ে মনে হয়েছিল তাঁর আবার বয়স কমে গেছে, শাশুড়ির পানের ডিবে থেকে চাবি নিয়ে তোরঙ্গ খুলে ভাঁজে ভাঁজে কাটা বেনারসী,  শাড়ি, অম্রুতাঞ্জনের কৌটো, গাছকৌটো, কাজললতা, কতকগুলি মাটির পুতুল,  মাটির খেলনাবাটি এসব দেখে চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে। গা তালা লাগিয়ে আবার চাবি সেখানে রেখে পানের বাটা শাশুড়ির ছবির নীচে রেখে দিয়েছেন।
 পয়লা বোশেখ ,  বাড়ি ঝাড় পোঁছ চলছে, শব্দ করে রান্না চলছে,  বাড়ি জেগে উঠেছে।
” ও মা চলো ,  চিলেকোঠা দেখে আসি  “,  চোখ মুছে দেখেন বড়বউ  লতি। চিলেকোঠাটা আর ইচ্ছে করেই যাননি, দরজাটা খুললেই পুরনো স্মৃতিরা তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে কাঁদিয়ে দেবে। কোল থেকে অ্যালবাম নামিয়ে রেখে পালঙ্ক থেকে নামলেন। বড়বউ ছাড়বে না যে তাই গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ি চড়তে থাকেন।  চিলেকোঠার সামনে এসে খানিক থমকে দাঁড়ান। হঠাৎ দোতলা থেকে ”  বড়দিই ,  একবারটি এসো,  ঘুঘনিতে কেমন নারকোল দেবে বলে দেবে এসো ”  মেজবউ ডাকছে। বড়বউমা  ” মা একটু আসছি,  বলে ত্বরিত গতিতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায়,  সেদিকে তাকিয়ে ভাবেন জীবন তাঁকে অনেক দিয়েছে। বউমাদের মন ভালো। আলাদা থাকে বটে, তবে মিলে মিশে। তিনি থাকেন বড় ছেলের কাছে।
যা হোক এগিয়ে যান চিলেকোঠার দরজা দিকে। ভেজানো দরজা ঠেলতেই
কে ও  জানলায় দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে …  সাদা পাজামা পাঞ্জাবীতে …  কে ?
দরজায় আঙুল দিয়ে হালকা টোকা দেন। মানুষটা ঘুরে তাকায় তাঁর দিকে।  ” চিনতে পারো বর্ণা ?  নিরুদ্দেশ থেকে ধরে আনল তোমার বড় ছেলে…  তোমাকে দেখার টানে আবার ফিরে এলাম ।  “
পায়ে পায়ে এগিয়ে এলেন বর্ণা ,  পাঞ্জাবীটা মুঠো করে ধরলেন,  তফাৎ এটাই সেদিন মুঠো করে ধরায় হাতের চুড়ির শব্দ হয়েছিল, আজ একটা চুড়িতে সেই শব্দ হল না।
 দরজার ওপারে বড়ছেলে বলল ”  মা এই তোমার বৈশাখী উপহার,  বাবার তরফ থেকে।  তিনি আমায় যা জানতেন জানিয়েছিলেন। আমি অনেক খোঁজ করে করে ওঁকে খুঁজে পেয়েছি।  শেষ বয়সে ভালো থেকো মা নিজের মত করে,  আমরা কাল চলে যাচ্ছি এখান থেকে।  একটু পরে নীচে এসো।  কেমন ? ” ।
সুবর্ণপ্রভা দেবী শুনলেন ।  আনন্দের মুখের দিকে তাকিয়ে পাঞ্জাবীটা মুঠোয় ধরেই রইলেন,  বাইরে তখন গোধূলির আলো আকাশের বুকে….

You may also like...

Leave a Reply