বর্নালী চন্দ র অনুগল্প ‘ফিরে দেখা’

ছাতাটা নিয়ে যা, বাইরে কালো মেঘ করেছে, বৃষ্টি আসছে তেড়ে। মার কথা কানে না তুলেই একছুটে বাইরে বেরিয়ে গেল অহনা। কোচিং ক্লাসে দেরি হয়ে যাবে। বেরিয়েই দেখল, চারিদিকে ঘন কালো মেঘ করেছে, বৃষ্টি নামল বলে। প্রায় দৌড়ে মন্দিরের মোড়টা ঘুরেই কুন্তলদাদের বাড়ির সামনে আসতেই পাদুটো অজান্তেই আস্তে হয়ে গেল। বুকের লাবুডাবু শব্দটা এত জোড়ে শুরু হল যে  আশেপাশের লোকজন‌ও শুনতে পাবে মনে হল। কুন্তলদাদের বাড়ির সামনে পরিচিত লাল রেসিং সাইকেলটা দাঁড় করানো। যেতে যেতে আড়চোখে সাইকেলের মালিককে খোঁজার চেষ্টা করল অহনা, কিন্তু পেল না খুঁজে। বড় কষ্ট হচ্ছে অহনার, কান্না পাচ্ছে। ছোট ছোট ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হল। দৌড়ে কোচিং ক্লাসে পৌঁছাতে গিয়েও খানিকটা ভিজে গেল বেচারী। চুপ করে ক্লাসের এককোনায় বসল ও। এই বায়োলজির ক্লাসটা ওর খুব প্রিয়। কিন্তু আজ কিছুতেই মন বসাতে পারল না নিবেদিতাদির পড়ানোয়। বাইরের ঝড় এখন বাসা বেঁধেছে অহনার মনে। পড়া শেষ হতেই ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ল বন্ধুদের কথা না শুনেই। আর বাঁধ মানল না চোখের জল। বৃষ্টির জলে মিশে যেতে থাকল অহনার চোখের জল। মাথা নিচু করে হাঁটা লাগাল বৃষ্টির মধ‍্যেই। বেশ কিছুক্ষণ পর মনে হল, মাথায় তো বৃষ্টির জলে্র ছাঁট লাগছে না!! মুখ তুলে দেখল, রেসিং সাইকেলের মালিক মাথায় ছাতা ধরে পাশে পাশে হেঁটে চলেছে। অহণা হাত বাড়িয়ে ছাতা ধরা হাতটা জড়িয়ে ধরল।

দরজার কোনে সেই পুরোনো ছাতাটা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন অহণা। চুপচাপ ছাদে উঠে গেলেন। স্টোররুমের দ‍রজা খুলে কোনায় রাখা পুরোনো লাল সাইকেলটায় হাত বুলালেন। তারপর নীচে নেমে এসে তৈরি হতে থাকলেন কলেজে যাওয়ার জন‍্য।আজ‌ও আকাশভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছে।। তবে ছাতার প্রয়োজন নেই অহণার, আজকাল গাড়িতেই যাতায়াত করেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *