দিল্লিতে বাংলা বইয়ের মেলা

বর্ণালী চন্দ

দিল্লি বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত বইমেলাটি এবারে ষোড়শী হলেন । চারিদিকে শুধু বাংলাবই দেখা আর পছন্দসই বই কেনা,এযেন এক স্বপ্নপূরণের গল্প!দিল্লির বুকে এমণ এক আয়োজনের জন্য অবশ্যই সাধুবাদ প্রাপ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের । আমার মতো যারা বাংলার বাইরে বাস করেন অথচ বাংলা বই পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন তাদের জন্য নিউ দিল্লি কালিবাড়ি প্রাঙ্গনের এই মেলা অবশ্যই গন্তব্য ।

অনেকেই প্রশ্ন করতেই পারেন যে, এই হাইটেকের জামানায়, যেকোনো বই তো অনলাইন কিনতে পাওয়া যায়, কষ্ট করে বইমেলায় যাওয়ার দরকারটাই বা কি আর বইমেলা নিয়ে এত আদিখ্যেতার প্রয়োজনটাই বা কি? আছে, মেলায় যাওয়ার প্রয়োজন অবশ্যই আছে । এখানে শুধুমাত্র বই কেনাবেচাই হয় না , বইমেলা একটা আবেগ । হিন্দি ভাষাভাষীর দেশে একজায়গায় এত বাংলা বই একসাথে ছুঁতে পারাই এক বিরাট প্রাপ্তি, কেনা তো পরম প্রাপ্তি । বইমেলাতে কি আমরা শুধু বই কিনলাম? না, তার সাথে দেদার আড্ডা মারলাম । হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন থুড়ি ঠিকই পড়েছেন, আড্ডা মারলাম । আর ভাগিদার হলাম অপূর্ব সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের । যে লেখকদের লেখা পড়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকি, সেই লেখকদের সাথে বসে গল্প করাটা কি অনলাইন শপিং দিতে পারে, না তাঁর আটোগ্রাফটা দিতে পারে? বা যে প্রকাশক বন্ধুদের কর্মকান্ডের সাথে আমরা পরিচিত হয়ে়ছি ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের সাথে সামনা সামনি বসে সেই কর্মকান্ডের শরিক হওয়া এবং তাদের পরিশ্রমের গল্প শোনাটা ঠিক অনলাইনে পাওয়া যাবে না ।

নতুন বই ঘেঁটে তার গন্ধ শুঁকে কেনার মজাটাই আলাদা। সে মজা অনলাইনে পাওয়া যায় না। তবে দিল্লির বইমেলাকে শুধুমাত্র বইয়ের মেলা বললে ভুল হবে । বরং একে সাংস্কৃতিক মিলণমেলা বললে সঠিক বিশ্লেষণ হবে । ১৪ই মার্চ থকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই মেলায় বই তো ছিলই, সঙ্গে ছিল বিভিন্ন সাহিত্য বিষয়ক আলোচনাসভা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ।বইমেলায় আলোচনা সভা ছিল নক্ষত্রখচিত । কে ছিলেন না এই আলোচনা সভায় !! আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, কিন্নর রায়, মন্দাক্রান্তা সেন,শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, তসলিমা নাসরিন, সাদিক হোসেন, কবি বিনোদ ঘোষাল এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন । এসেছিলেন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী । ছিলেন লোপামুদ্রা, শুভমিতা, শ্রাবণী সেন তাঁদের গানের সম্ভার নিয়ে । দিল্লির শিল্পীরাও পাল্লা দিয়েছেন সমানতালে । আগামীদিনে এই বইমেলা পল্লবিত হোক, এগিয়ে চলুক আপন গতিতে । আর আমরা – মানে দিল্লির আপামর বাঙ্গালি এই বইমেলাকে ঘিরেই মেতে উঠি আনন্দোতসবে ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *