লাভ ইউ জিন্দেগি

আলমগীর ইমন

‘Love you zindagi, Love you zindagi,
Love you zindagi, Love me zindagi…’
হঠাৎ গান শুরু করলাম কেনো? তাও আবার বাংলা নয়, হিন্দি গান!
cবান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়িতে (ছাউনিহীন ছোট জীপ) করে যখন স্বর্ণমন্দির, সেখান থেকে নীলাচল এবং সর্বশেষ নীলাচল থেকে ফিরতে মেঘলা (বাস পার্ক) কয়েকজনকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনজন টিচারের একজন (ডিপার্টমেন্ট প্রধান) ড্রাইভারের পাশে ছিলেন, অন্য দু’জন আমাদের সঙ্গে। মোট চারটি গাড়ির বাকি তিনটিতে একজন কর টিচার ড্রাইভারের পাশে থাকলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন না। তাই তারা ইচ্ছা দুষ্টমি-আনন্দ করতে বিশেষ বাঁধা নেই। করছেও তাই।
তাহলে আমরা কি রোবট সেজেই সময় অতিবাহিত করবো? দাঁড়িয়ে গেলাম, একে একে সবাই। ইচ্ছে মতো চিৎকার করছি, মাঝখানে একেকজন একেকটা গান লাইন-দুলাইন করছি আর বাকিরা কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাচ্ছি। কি দারুণ! ম্যাসিউট ছেলে-মেয়ে এভাবে চিৎকার করছি, আশপাশের কেউ কিছু মনে করছেন কিনা তা ভাবার সময় আমাদের নেই! আজ আমাদের কোনো বয়স নেই! আনন্দেরই দিন আজ।
আমি কোনো গান শুরু করেছিলাম কিনা মনে নেই। তবে যে গানের নামটি বারবার শুনেছি- ‘Love you zindagi’. নামটি বলে ঠিক, কিন্তু গান করে না। আমার জানা থাকলে আমিই করে দিতাম। হিন্দি বুঝি না, ইচ্ছা করেই বুঝি না। তবে গানটি শুনতে ইচ্ছে হলো। বেশ ক’বার নাম শুনার পর নিজেই রিকুয়েস্ট করলাম শুনাতে। কিন্তু কঠিন সুর তাই নাকি পারে না। ব্যর্থ রিকুয়েস্ট। (মোবাইলে ডাটা ছিল না তাই সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবেও সার্চ করা গেলো না।) তবে গানটির মর্মকথা বুঝতে অসুবিধা হলো না।
এমন আনন্দক্ষণে জীবন তো সুন্দর মনে হবেই। সত্যিই তো জীবন সুন্দর। তাই এখনই তো এ গান পারফেক্ট-
‘Love you zindagi, Love you zindagi,
Love you zindagi, Love me zindagi…’

মানুষ যতক্ষণ আনন্দে থাকে, জীবনটা খুব সুন্দর মনে করে। আর যখন কালোমেঘ জীবনকে ঘিরে ধরে তখন ঐ মানুষের কাছে তার জীবন সৌন্দর্যের সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। বলতে দ্বিধা করি না তখন জীবনের অন্যনাম- যন্ত্রণা! একদিন সুসাইড নোটে লিখতে পারি- যে আমি অনেকবার ‘লাভ ইউ জিন্দেগি’ বলেছি! একবারও ভাবি না- সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কিভাবে শিখেছি।

কেউ কি বলে দিয়েছে এটি সুন্দর, ওটি অসুন্দর, এটি রঙিন, ওটি কালো, এটি টক, ওটি ঝাল এবং অন্যটি মিষ্টি; আর আমরা মুখস্ত করে রেখেছি? না। আমরা নিজেরা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি, একটিকে অন্যটির সঙ্গে তুলনা করছি এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছি- এটি সুন্দর, ওটি অসুন্দর, এটি রঙিন, অন্যটি…।

মানুষকে যদি শুধু সুখই দেওয়া হতো মানুষ সেটা যে কিভাবে জানতো? অনুরূপ দুঃখও। আনন্দের পরে যখন দুঃখ আসে আর দুঃখের পরে যখন আনন্দ আসে আমরা নিশ্চিত হই যে- কখন জীবন সুন্দর, কখন অসুন্দর।
যেহেতু তুলনা করার জন্য আমাদের উভয়টি দরকার, দুটিই আমাদের কাছে সমান গুরুত্ব প্রত্যাশা করে। সমান গুরুত্ব দেয়া আমাদের কর্তব্যও। আনন্দের সময় যদি বলি, ‘Love you zindagi’ আর কষ্টের সময় যদি বলি, ‘এ জীবন চাই না’ তাহলে আমরা কর্তব্যে ফাঁকি দিই, জীবনের প্রতি অবিচার করি।

আমরা মানুষ। সুখ-দুঃখের সমষ্টিই আমাদের জীবন। অনির্দিষ্ট ছোট্ট জীবনের আমরাই শিল্পী। সুখে-দুঃখে ভালোবেসে সুন্দর করতে পারি আমরা। একই সঙ্গে সুর মিলাতে পারি- LOVE YOU ZINDAGI.

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ইদানীং (লিটল ম্যাগ)

মামুন এন্টারপ্রাইজ, চকবাজার, চট্টগ্রাম।
মুঠোফোন- 01754638455

You may also like...

Leave a Reply