মৌমিতা গুঁইর কবিতা ‘প্রার্থনা’

পঞ্চ স্বামীর সোহাগে,
বংশ ধ্বংসের অভিশাপ কুড়িয়ে সন্তান হারালো যে মা,
স্বভাবসুলভ হিংসায় মুখ বেঁকিয়ে মেপে নিচ্ছিলাম তার কৃষ্ণের মত বন্ধু পাবার সৌভাগ্যকে।
অগ্নিকুন্ড থেকে জন্মানোর পর সেই অগ্নিরূপ কেন আমার হল না –
কত সহজে জয় করতাম আকাঙ্খিত পুরুষকে।হিসহিসিয়ে শিরায় শিরায় বিদ্রোহ উঠল –
কুরুক্ষেত্রের রক্তস্নাত রূপ,অনন্য অসামান্য সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা,তার ভালবাসা, স্বয়ম্বরের সে সভা,কর্ণের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যন্ত্রণা ক্রমশ শিরা উপশিরায় জট পাকিয়ে দিতে শুরু করল।

অস্থির হয়ে ভাবতে থাকলাম –
ভাগ্যিস অত রূপ নেই,
কর্ণের মত প্রেমিক নেই।

জানেন,
কেউ জানতে চায় নি সেই মেয়ে
কতটা ভালবেসেছিল অর্জুনকে।
স্বয়ং অর্জুন ও না।

রথের চাকা হাতে আহত অভিমানী কর্ণের মন্ত্র ভুলের পরাজয়ের পর কেউ পিঠ চাপড়ে দেয় নি,
শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা তুমি, হেরে গিয়ে জিতে গেলে তুমি কেউ তা বলে নি।

“হে দশ দিক,আমি কোন দোষ করি নি,আমাকে ক্ষমা কর।”
আমি রূপ চাই না, গুণ চাই না,
চাই দ্রৌপদীর সেই তেজ।।
অভিমানী প্রেমিক চাই না,
চাই না কর্ণের প্রেম ও
কর্ণের মত যোদ্ধা হতে চাই,
যাকে হারাতে সারা বিশ্ব ষড়যন্ত্র করবে।

You may also like...

Leave a Reply