ময়ূরী পাঁজার পাঁচটি অনুগল্প

তিথির শাড়ি ও গয়নার কালেকশন দেখে সবাই হিংসে করে,  সে  বাড়ির লোকজন হোক বা পার্টিতে.. কতজন ঠোঁট বেঁকায় হিংসায়!!
কেউ জানে না___
অন্যের গোছানো সংসারে স্বামী সন্তানদের দেখে  কত রাত বালিশের বুক ভেজে।
” উম্ ম্ ম্, তন্দুর চিকেন হচ্ছে, রুমালী রুটি দিয়ে খাব। এইইই ছোকরা এখানে দিয়ে যাও… তন্দুরের আঁচ কি গরম….. কে ডাকছে রে “
” এই দুলাল, শ্লা কামচোর, ওঠ, উনুন কি আমি জ্বালব তুই থাকতে?? “
দুলাল জেগে উঠে চোখ মুছে দেখল সুয্যি আকাশে উঠেছে, নেতাই কাকা দোকানের ঝাঁপ খুলছে। রোদের তাপটাই তন্দুর আঁচ মনে হচ্ছিল। রোজ ভোরে সে এই স্বপ্নটাই দেখে ঘুম থেকে ওঠে।
” সর্ সর্ নোংরা ছেলে ছুঁবি না “। রোজ শুনতে শুনতে ওরা বলে ” এ দিদি, এ দাদা ৫ টাকা দাও , খিদে পেয়েছে “। পেনাও ওদের মধ্যে একজন। লোকজন মুখ ভেটকালে, কিছু বললে সেটা মনে রাখে, রাত্রে বন্ধুদর নকল করে দেখায়।
সব ঠিকই থাকে, শুধু মাস আট/নয়ের বাচ্চা মেয়ে দেখলে খুব চুপ করে থাকে সেদিন।
বাড়ি থেকে পালানোর আগে বোনকে শেষ ঐ বয়সে দেখে এসেছিল যে!!!
 ৪
” ওহ বাবা গো! তোর কি দয়া মায়া নেই ইশান? বুড়ো হয়েছি… ঠেলে দিলি, তোর মা শিক্ষা দেয় নি নাকি, নাকি তারই শিক্ষা দীক্ষার অভাব ? ” দশ বছরের ইশান ঠাকুমাকে ঠেলে সরিয়ে  দিয়েছে, সিঁড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি উঠবে বলে।
ইশানের মা এসে দাঁড়াল। মুখে একটা রহস্যময় হাসি। ” বাড়ির বড়োদের থেকে শিখেছে মা,  বড়রা যেমন শেখাবেন। গুরুজনো যে নো গতঃ স পন্থা। “
” ছানার পায়েসটা কেমন হয়েছে বাবা ?  ” পিউ আরো এক চামচ বাবার মুখে ধরে।  মোলায়েম পায়েস মুখের ভেতর গলে যায়। ”  খুব খুব ভালো হয়েছে মা ,   আমার মাস্টার শেফের রান্না বলে কথা  ” মনে মনেই আউড়ে নেন আশিস বাবু, চোখের কোণ বেয়ে নোনতা জল গড়িয়ে নামে। পিউ মুছিয়ে দেয় পরম যত্নে,  আশিসবাবুর ভেতরটা অনুতাপে পুড়ে যায়। ” বাবা আসি,  এই খাবারগুলো ডেলিভারি দিয়ে আসি,  লক্ষ্মী হয়ে থাকুন, একঘন্টার মধ্যে আসছি  “,  হাত তুলে বিদায় জানানোর ক্ষমতাও আজ আর নেই।
এই তো পাঁচ বছর আগেও বৌমাকে বাইরে চাকরি করতে দিতে চাননি,  ছেলের সাথে মিলে নানা অন্যায় যুক্তি দেখিয়েছেন,  মনে হয়েছে  মেয়ে হয়ে যোগ্যতায় পুরুষকে টক্কর দেবে,  এ কি হতে দেওয়া যায় ??
পাঁচবছরে অনেক কিছু বদলেছে,  স্ট্রোকে তিনি প্যারালাইজড,  ছেলে এঘরে দূর, বাড়ি ফেরে না। বউমা সামান্য গয়না বন্ধক দিয়ে হোম ডেলিভারির ব্যাবসা খুলেছে।  এই তাঁকে খাইয়ে দিয়ে গেল এবার কাছাকাছি অফিসগুলোতে টিফিনকৌটো নিয়ে যাবে,  যতটা পারে। চোখের কোণ বেয়ে আবার অশ্রু নেমে এল।

You may also like...

3 Responses

  1. Sling TV says:

    It’s actually a nice and helpful piece of information. I am happy that you just shared this helpful
    info with us. Please stay us up to date like this. Thanks for
    sharing.

  2. Sling TV says:

    Hi there! This post couldn’t be written any better! Reading this post
    reminds me of my old room mate! He always kept talking about this.

    I will forward this write-up to him. Fairly certain he will have a good read.
    Many thanks for sharing!

  3. Shankhatanu says:

    3 no. Golpo ta hriday chinte gelo ?

Leave a Reply